হাদিসের তালিকা

Menu

সহিহ বুখারী (৭৫৬৩ টি হাদীস)

৯৬ কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা হাদিস নাম্বার:-  ৭২৬৮ - ৭৩৭০

৯৬/১৮. অধ্যায়ঃ

আল্লাহ্‌র বাণীঃ মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্কপ্রিয়। (সূরা আল-কাহাফ ১৮/৫৪)


মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ তোমরা কিতাবধারীদের সঙ্গে বিতর্ক করোনা..... । (সূরাহ্‌ আল-‘আনকাবূত ২৯/৪৬)

৭৩৪৭

সহিহ বুখারী

অধ্যায় : কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা

হাদীস নং : ৭৩৪৭


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا عَتَّابُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنهما ـ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَرَقَهُ وَفَاطِمَةَ ـ عَلَيْهَا السَّلاَمُ ـ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُمْ ‏"‏ أَلاَ تُصَلُّونَ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ عَلِيٌّ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا أَنْفُسُنَا بِيَدِ اللَّهِ، فَإِذَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَنَا بَعَثَنَا، فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالَ لَهُ ذَلِكَ وَلَمْ يَرْجِعْ إِلَيْهِ شَيْئًا، ثُمَّ سَمِعَهُ وَهْوَ مُدْبِرٌ يَضْرِبُ فَخِذَهُ وَهْوَ يَقُولُ ‏{‏وَكَانَ الإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَىْءٍ جَدَلاً‏}‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ يُقَالُ مَا أَتَاكَ لَيْلاً فَهْوَ طَارِقٌ‏.‏ وَيُقَالُ الطَّارِقُ النَّجْمُ، وَالثَّاقِبُ الْمُضِيءُ، يُقَالُ أَثْقِبْ نَارَكَ لِلْمُوقِدِ‏.‏

আলী ইব্‌নু আবূ ত্বলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এবং রসূলের মেয়ে ফাতিমা (রাঃ) এর নিকট আসলেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা সালাত পড়েছ কি? ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের জীবন তো আল্লাহ্‌র হাতে। তিনি আমাদেরকে যখন জাগাতে চান, জাগিয়ে দেন। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চলে গেলেন, তার কথার জবাব দিলেন না। ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি শুনতে পেলাম, তিনি চলে যাচ্ছেন, আর ঊরুতে হাত মেরে মেরে বলছেনঃ মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্কপ্রিয়। আবূ ‘আব্দুল্লাহ্‌ (বুখারী) (রহঃ) বলেন, তোমার কাছে রাতের বেলা আগমনকারী আসে তাকে ‘তারিক’ বা রাতের অতিথি বলে। ‘তারিক’ একটি তারাকেও বলা হয়। আর ‘সাক্বিব’ অর্থ হল জ্যোতির্ময়। এজন্যই আগুন যে জ্বালায় তাকে বলা হয়, তুমি আগুন জ্বালাও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৬)

শাইখ আবূ মুহাম্মাদিবনু আবি জামরাহ বলেন, এ হাদীসের মধ্যে শিক্ষণীয় হচ্ছেঃ
১. বিশেষ করে গাফেল নিকটাত্মীয় এবং সঙ্গী সাথীদেরকে স্মরণ করে দেওয়ার বৈধতা।
২. যা অন্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই ব্যাপারে কোন ব্যক্তির তার নিজের সাথে কথোপকথনের বৈধতা।
৩. আশ্চর্য হওয়ার সময় কোন ব্যক্তি তার নিজের কোন অঙ্গের উপর প্রহার করার বৈধতা। অনুরূপভাবে আফসোস বা পরিতাপের সময় ও তা বৈধ।
৪. আলী (রাঃ)’র ফযীলত। (ফাতহুল বারী)

৭৩৪৮

সহিহ বুখারী

অধ্যায় : কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা

হাদীস নং : ৭৩৪৮


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ ‏"‏‏.‏ فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَا بَيْتَ الْمِدْرَاسِ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُمْ فَقَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ يَهُودَ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا ‏"‏‏.‏ فَقَالُوا بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ‏.‏ قَالَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ذَلِكَ أُرِيدُ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا ‏"‏‏.‏ فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ‏.‏ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ذَلِكَ أُرِيدُ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ فَقَالَ ‏"‏ اعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَرْضِ، فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعْهُ، وَإِلاَّ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ‏"‏‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে নাবাবীতে ছিলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইয়াহূদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরোলাম। শেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষালয়ে) পৌঁছলাম। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল কর, এতে তোমরা নিরাপত্তা লাভ করবে। ইয়াহূদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর এবং শান্তিতে থাক। তারাও আবার বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি এরকমই ইচ্ছে পোষন করি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। অবশেষে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে নির্বাসিত করতে চাই। কাজেই তোমাদের যাদের মালপত্র আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। তা নাহলে জেনে রেখো যমীন আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৭)

ইয়াহূদীদের সঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শান্তি চুক্তি থাকলেও তাঁরা চুক্তি লঙ্ঘন করে মুসলমানদের বিরোধিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। ইয়াহূদীদের কায়নুকা বাজারে পর্দানশীল এক আরব মহিলা দুধ বিক্রি করতে আসলে ইয়াহূদীরা তাঁকে চরমভাবে অপমানিত করে। ইয়াহূদীদের নানামূখী ষড়যন্ত্র ও নির্লজ্জ শত্রুতার প্রেক্ষাপটে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে বললেন - “হে ইয়াহূদ সমাজ! তোমরা আনূগত্য স্বীকার কর, না হলে কুরাইশদের মত তোমাদেরকেও বিপন্ন হতে হবে। তারা তা না করায় রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নেন। তারা দূর্গে আশ্রয় নেয়। পনের দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তারা আত্ন সমর্পণে বাধ্য হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নির্বাসিত করেন।
Copyright © 2022 myislam | Powered by Masud Rana.